বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:১৪
শিরোনাম :
সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব অটো চালক নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, মুল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার চায় এলাকাবাসী সততার কারণে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে বছরে দুই বার বদলি বিআরটিসির কর্মকর্তা জামিল!

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি সিলেটের শতাধিক গ্রামের মানুষ

শাহেদুর রহমান জুনেদ, সিলেট প্রতিনিধি:সিলেটে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অঝোর ধারায় বৃষ্টির কারণে শুক্রবারও বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, ধলাই ও পিয়াইন সহ ছোট -বড় সকল নদ- নদীতে প্রতিদিন পানি বাড়ছেই। অনেক নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একারণে জেলা সদরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদানও বন্ধ রয়েছে।

 

এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারি এবং কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও ধলাই কোয়ারিতে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব পাথর কোয়ারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট সাদা পাথর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ও প্রবল স্রোতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে গত বুধবার থেকে কয়েক হাজার পর্যটক ওই পর্যটন স্পট না দেখেই ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়াও সেখানে সকল ধরনের পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এছাড়া ধলাই, পিয়াইন ও জাহাজ খালি অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির কারণে কোম্পানি গঞ্জ উপজেলার সবকটি হাওর তলিয়ে গেছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ গ্রামের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে দিঘীরপাড় পূর্ব, সাতবাঁক, বড়চতুল, রাজাগঞ্জ, ঝিঙ্গাবাড়ী, সদর, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার লোকজন।

এছাড়াও গোয়াইনঘাট,জকিগঞ্জ,গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সিলেটে পানি বৃদ্ধির কারনে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।